জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফল ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জানানো হয়, আগামী ২৮ জুন (রবিবার) দোহার উপজেলার ২১৭টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একযোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। কর্মসূচির আওতায়, ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সি শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস (৫ বছর) বয়সি শিশুদের একটি করে লাল রঙের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
শতভাগ প্রস্তুতির আশ্বাস: উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রবিউল ইসলামের উপস্থাপনায় সভায় ক্যাম্পেইনের সার্বিক কর্মপদ্ধতি ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, উপজেলার প্রতিটি কেন্দ্রে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও ডেডিকেটেড স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ: প্রধান অতিথির বক্তব্যে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক শারীরিক-মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।” এ সময় তিনি সব অভিভাবককে তাদের শিশুকে নিকটস্থ নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করার অনুরোধ করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে এই জাতীয় ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ভিটামিন ‘এ’ শুধু শিশুদের দৃষ্টিশক্তিই রক্ষা করে না, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অপুষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই কোনো শিশু যেন এই জীবনরক্ষাকারী সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
অবহিতকরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ, উপজেলা পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন, উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার এবং দোহার থানার সেকেন্ড অফিসার জীবন চন্দ্রসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।