ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর–কৃষ্ণনগর সড়কের কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন অংশটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় গর্তগুলো আরও গভীর হয়েছে। পানির নিচে গর্তের অবস্থান বোঝা না যাওয়ায় প্রায়ই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনে চলাচলকারী যাত্রীরা।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের খানাখন্দে পড়ে কখনো অটোরিকশায় থাকা মালামাল উল্টে যাচ্ছে, আবার কখনো যাত্রীসহ যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষকেও প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
নবীনগরের বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা নিয়ে এর আগেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালে জিনোদপুর বাজার থেকে দশমৌজা বাজার পর্যন্ত একটি সড়কের খানাখন্দ এবং বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগের খবর প্রকাশিত হয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিতারামপুর সেতু থেকে কৃষ্ণনগর বাজার পর্যন্ত সড়ক পরিদর্শন করেছিলেন তৎকালীন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
সে সময় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ থেকে সদর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
তবে কৃষ্ণনগর বাজারসংলগ্ন সড়কের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাঁদের প্রশ্ন, এই দুর্ভোগের অবসান হবে কবে? আর কত দিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে এই সড়কে?
স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও যাত্রীরা দ্রুত সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে টেকসই মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয়দের মতে, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সড়কটি সংস্কার করা হলে এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।