সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কঠোর অবস্থানের জেরে দস্যু ও অপরাধী চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটের মোংলার জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এই ঘটনায় উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে অপরাধীদের দমনে সর্বাত্মক যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মেগা অভিযান ও সাফল্য: কোস্ট গার্ডের ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে সুন্দরবনে দস্যুতা প্রায় নির্মূলের পথে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গোলাবারুদসহ ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং ৪১ জন অপহৃত বনজীবীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের ক্রমাগত চাপের মুখে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদারসহ তার পুরো দল আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
জয়মনির ঘোল স্টেশনে হামলার নেপথ্য: কোস্ট গার্ডের কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীদের দীর্ঘদিনের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জয়মনির ঘোল এলাকায় দস্যুদের রসদ সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আধিপত্য হারানোর চরম ক্ষোভ থেকে গত ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) একদল দুর্বৃত্ত জয়মনির ঘোল কোস্ট গার্ড স্টেশনে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে কোস্ট গার্ডের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালিদের মতে, কোস্ট গার্ডকে এলাকা ছাড়া করে পুনরায় দস্যুদের অভয়ারণ্য তৈরির উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
যৌথ বাহিনীর অ্যাকশন ও গোয়েন্দা নজরদারি: এই হামলার ঘটনার পর কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো হামলা বা অপপ্রচার বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পারবে না। বর্তমানে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলমান রয়েছে।
মোংলা বন্দর ও সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা: মোংলা বন্দরের নৌপথের সুরক্ষা, বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল রুট সচল রাখা এবং সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ও মৎস্য সম্পদের প্রজনন রক্ষায় চলমান পর্যটন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। উপকূলীয় সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ও অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে আধুনিক ড্রোন এবং উন্নত সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।