খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ও চাঁদাবাজি দমনে শুরু হওয়া বিশেষ যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রনি চৌধুরী বাবু ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’র বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নগরের শামসুর রহমান রোড এলাকার ওই অভিযানে গ্রেনেড বাবুর ভাইসহ বিভিন্ন গ্রুপের বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে হানা ও ভাই আটক: খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শামসুর রহমান রোডে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে এই ঝটিকা অভিযান চলে। এ সময় তাঁর ভাই মাহামুদুন চৌধুরী জনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের এপ্রিল ও জুনেও যৌথ বাহিনীর অভিযানে এই বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি, বিদেশি মুদ্রা এবং মাদক বিক্রির ৩৮ লাখ টাকা উদ্ধারসহ বাবুর বাবা ও অপর এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অন্যান্য ডেরা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার: কেএমপির বিশেষ এই চিরুনি অভিযানে গ্রেনেড বাবু গ্রুপের সদস্য নূর আলম ইসলাম ওরফে নূরু ছাড়াও হরিণটানা থানার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন মোল্লা এবং সোনাডাঙ্গা অঞ্চলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী রনি শেখ ওরফে কাবা রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরের শেখপাড়ার একটি মার্কেটে চাঁদা দাবি করে সেটি জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেনেড বাবুর মালিকানাধীন ‘বি-কোম্পানি’ নামক সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক খতিয়ান ও নেপথ্য: পুলিশ জানায়, ২০১০ সালের ১০ জুন মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে নগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। কেএমপির তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতির সুযোগে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ড এবং গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪টি খুনের ঘটনার পেছনে এই সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ।
আটক জনিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক: গ্রেনেড বাবুর আটককৃত ভাই মাহামুদুন চৌধুরী জনিকে নিয়েও খুলনায় ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিএনপির সমর্থক ব্যবসায়ীদের একটি অংশকে সাথে নিয়ে খুলনা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ) ভবন জোরপূর্বক দখল করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে জনি কাস্টমসের বর্তমান নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দাবি করে সম্প্রতি গণমাধ্যমে জানান, ৫ আগস্টের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দরের কাজ সচল রাখতেই ছাত্রসমাজের উদ্যোগে তৎকালীন কমিটি গঠিত হয়েছিল, যা কোনো দখলের ঘটনা ছিল না।