কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনায় সম্পন্ন হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলা ও মহানগরীতে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারের দুর্গোৎসব সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা জেলা ও মহানগরীতে মোট ৯৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে জেলার নয়টি উপজেলা ও দুটি পৌরসভায় ৮৩৭টি এবং মহানগরীতে ১১৯টি মণ্ডপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। মণ্ডপগুলোতে নজরদারি, টহল ও বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এর আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ৯৫৬টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের ১১ হাজার ২২৪ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের বক্তব্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব, পূজা উদ্যাপন কমিটির সহযোগিতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে সহায়ক হয়েছে।
অন্যদিকে, খুলনা জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা জানিয়েছেন, জেলার নয়টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। খুলনায় শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হওয়া ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে
তবে স্বাধীনতার পর এটিই খুলনার প্রথম বা সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এ ধরনের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা শুধু আয়োজনের জাঁকজমকে নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা এবং সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার মধ্যেই নিহিত। খুলনায় সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের এই পরিবেশ অটুট থাকুক সারা বছর, এটাই প্রত্যাশা।