জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের নামে অসত্য তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, উপাচার্য সংশ্লিষ্ট কোনো শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেননি।
এতে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধার বিষয়টি স্পষ্ট করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা এ বিষয়ে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের প্রতিনিধি, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার লক্ষ্যে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসন জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার বা পুনঃপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, “ক্যাম্পাসের কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচার করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও আস্থা বজায় রাখা জরুরি।
কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।