দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোরচক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চক্রের অপর এক সদস্য পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও তার বাড়ি থেকে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবি ওসি মুহাম্মদ আলমগীর, পিপিএমের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানাধীন ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের সুন্দরবন (দাসপাড়া) গ্রামের একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নয়ন দাস (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সুন্দরবন মাঝিপাড়া এলাকার ঘুগল দাসের ছেলে।
অভিযানে নয়ন দাসের বাড়ি থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের নীল রঙের রেজিস্ট্রেশনবিহীন Honda Shine SP CB 125cc মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন নম্বর JC72E-G-1007560 এবং চেসিস নম্বর PSOJC7290LH108295।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন দাস মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার কাকা শ্বশুর অনন্ত দাস ওরফে খাকাওয়ের কাছে আরও দুটি চোরাই মোটরসাইকেল রয়েছে।
পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের দল নীলফামারী সদর থানাধীন যাদুরহাট (দাসপাড়া/জেলেপাড়া) এলাকায় অনন্ত দাসের বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনন্ত দাস পালিয়ে যান। পরে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি লাল রঙের TVS Metro 100cc এবং আনুমানিক এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি নীল রঙের Bajaj Pulsar 150cc রয়েছে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ও পলাতক ব্যক্তিরা দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিলেন। উদ্ধার হওয়া তিনটি মোটরসাইকেলের মোট আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত নয়ন দাস ও পলাতক অনন্ত দাসের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।