কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে অবস্থিত ‘বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং সাময়িকভাবে এর সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভেড়ামারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আলাউদ্দিন (৭৪) নামের এক রোগীকে সরবরাহকৃত একটি “Serological Test Report” (পেশেন্ট আইডি: BDC-1933)-এ কোনো স্বীকৃত বা উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন এমবিবিএস চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও সিলমোহর ছিল না। এমনকি ল্যাবের কোনো নিবন্ধিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (প্যাথলজি) স্বাক্ষর বা সিলমোহর ছাড়াই সাধারণ মানুষকে এই সংবেদনশীল টেস্ট রিপোর্ট সরবরাহ করা হচ্ছিল।
টাকা নিয়ে প্রতারণা ও আইন লঙ্ঘন: ল্যাব টেস্টের নামে রোগীদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসাসেবা বা বৈধ রিপোর্ট সরবরাহ না করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছিল প্রতিষ্ঠানটি। এই অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী জগলুর রহমান লিটনকে (৬০) নগদ ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে শাস্তির আদেশ দেওয়া হয়।
সরঞ্জামের বেহাল দশা, স্টাফ ও লাইসেন্সহীন ল্যাব সিলগালা:
অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পান, ল্যাবের ভেতরে থাকা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামাদির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও বেহাল। এছাড়া ল্যাব পরিচালনার জন্য বৈধ লাইসেন্সের কোনো নবায়ন ছিল না এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত কোনো অনুমোদিত স্টাফ বা টেকনোলজিস্টকেও পাওয়া যায়নি।
এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আপতত উক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ কাগজপত্রাদিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সাথে যোগাযোগ ও তাঁর সন্তোষজনক নির্দেশ পাওয়ার পরেই কেবল এই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় খোলার অনুমতি পাবে।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডা. গাজী আশিক বাহার জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ও প্রতারণা রোধে জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।