ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের সাহেবনগরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী সততা ব্রিকস ফিল্ডে সংঘবদ্ধ ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে স্পিডবোট ও নৌকাযোগে আসা প্রায় ৩০ জনের একটি দল ইটভাটায় প্রবেশ করে নাইটগার্ড ও দুই ম্যানেজারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
ভাটাসংশ্লিষ্টদের দাবি, ডাকাত দলের সদস্যরা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার, দুটি মেশিন, চারটি মোটর, সাতটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
এ সময় ভাটার নাইটগার্ড আলফাজ মিয়ার হাত-পা বেঁধে রাখা হয়। পাশাপাশি দুই ম্যানেজারসহ অন্যান্য কর্মীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে দুর্বৃত্তরা।
ভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, লুটপাট শেষে চলে যাওয়ার সময় ডাকাত দলের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ভাটার মালিকপক্ষ ও কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নাইটগার্ড আলফাজ মিয়া বলেন, “ডাকাতরা আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। ডাকাতির পর আমাদের মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে গেছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির নিয়মিত টহল না থাকায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) রাজিব কান্তি নাথ বলেন, “এ বিষয়ে আমরা অবগত নই। এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।”
এদিকে, ভাটার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যার মধ্যে এ ঘটনায় নবীনগর থানায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হবে।
মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এমন ডাকাতির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্পিডবোট ও নৌকাযোগে এসে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠায় নদীপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং নিয়মিত টহল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভাটার মালিকপক্ষ ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।