কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে আছে ৬২ ফুট উচ্চতার এক বিশাল ‘প্লাস্টিক দানব’। দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, সাগর থেকেই উঠে এসেছে কোনো ভয়ংকর দৈত্য। তবে কাছে গেলে দেখা যায়, এটি আসলে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও পলিথিন দিয়ে তৈরি একটি ভাস্কর্য।
পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক মনস্টার’ নামের এই ভাস্কর্য।
ভাস্কর্যটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ১০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক। গত এক মাসে কক্সবাজার, ইনানী ও সেন্টমার্টিন সৈকত থেকে এসব প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়।
এটি নির্মাণে কাজ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আটজন শিল্পী ও ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক। ভাস্কর্যটিতে দেখানো হয়েছে, বিশাল এক দৈত্য পৃথিবীকে দু’ভাগ করে তার বুক চিরে প্লাস্টিক বের করে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, এটি সমুদ্রের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি বিশ্বের বৃহৎ রোবট-দানব আকৃতির ভাস্কর্য।
শুধু ভাস্কর্য প্রদর্শন নয়, প্লাস্টিক সংগ্রহে উৎসাহ দিতে সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ সেন্টার’।
এখানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল ও বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী জমা দিলে স্থানীয়রা চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন। পর্যটকদের জন্যও থাকছে বিভিন্ন উপহার।
বিদ্যানন্দ জানিয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক সংগ্রহ ও রিসাইকেল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের এই ব্যতিক্রমী ভাস্কর্য শুধু দর্শনার্থীদের ছবি তোলার জায়গা নয়, বরং প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতার প্রতীক হিসেবেও সামনে এসেছে।
সমুদ্র, নদী ও জলাশয়ে প্রতিনিয়ত জমছে প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। এতে জলজ প্রাণী, পরিবেশ ও মানুষের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সচেতনতার পাশাপাশি প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
কক্সবাজারের ‘প্লাস্টিক দানব’ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে—ছবি তুলুন, কিন্তু প্লাস্টিক ফেলে যাবেন না। বরং সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে জমা দিন।