ঢাকার যানজট কমাতে অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণের আলোচনা বর্তমানে তুঙ্গে। তবে নগরবাসীর মনে বড় প্রশ্ন—রাস্তার একটি বিশাল অংশ যখন ফুটপাতের দোকান, হকার, ব্যবসায়িক মালামাল ও অবৈধ পার্কিংয়ের দখলে থাকে, তখন কেবল অটোরিকশাকে যানজটের একমাত্র মূল কারণ হিসেবে দেখা কতটা যৌক্তিক?
ঢাকার যানজট যে একটি বহুমাত্রিক সংকট, তা সরকারি পর্যায়েও স্বীকৃত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার কারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে হাঁটেন। এতে যানবাহনের গতি সংকুচিত হয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ডিএমপি প্রায়শই উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অভিযানের পরপরই হকাররা আবারও স্থান দখল করে নিচ্ছে।
ঢাকার বাবুবাজার সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপর্ণ সংযোগ সড়কের মূল অংশে ফলের দোকান, কাঁচাবাজার ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় সড়কের কার্যকর ব্যবহার ভেস্তে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হকার ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালায় নিবন্ধন, হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন বাজারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা দৃশ্যমান নয়।
বিশেষজ্ঞ ও নগরবাসীর অভিমত, অটোরিকশা নিয়মের মধ্যে আনা বা নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা যেমন জরুরি, তেমনই পথচারীর চলাচলের জন্য ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করাও আবশ্যক। ফুটপাত পথচারীকে না ফিরিয়ে এবং অবৈধ পার্কিং ও সড়ক দখল বন্ধ না করে কেবল এক শ্রেণির যানবাহনকে দায়ী করলে যানজটের মূল সমস্যা অমীমাংসিতই থেকে যাবে।