কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেটের একটি ভবনের ক্যাপসুল লিফটের নিচ থেকে মো. কিরণ মিয়া (৪০) নামে এক রঙমিস্ত্রির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কিরণ মিয়া নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা সুন্দর আলীর ছেলে। তাঁর কপাল ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সোমবার সকালে রঙের কাজ করতে হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেকশনের ‘জনতা ব্যাংক’ নামে পরিচিত ওই ভবনে যান কিরণ মিয়া। কাজ শেষে তিনি বাড়ি না ফেরায় সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ওই ভবনেও যান।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল জানান, লিফটটি জেনারেটরের মাধ্যমে চলছিল। একপর্যায়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিরণ মিয়া নিখোঁজ থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে লিফটের ভেতর ও নিচে খোঁজ করা হয়।
ভবনের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, দিনভর খোঁজ করেও কিরণ মিয়ার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ধারণা করা হয়, তিনি হয়তো ভবনের ভেতরেই রয়েছেন। এরপর লিফটের নিচে খোঁজ করলে তাঁর মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
লিফটের মেকানিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাজু জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর তিনি ভবনে যান। তখন পরিবারের সদস্য ও ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফট পরীক্ষা করার একপর্যায়ে নিচে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিরণ মিয়া কীভাবে লিফটের নিচে পড়ে গেলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।