ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার রাজশাহী পয়েন্টে পানি বেড়েছে দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার। বর্তমানে এই পয়েন্টে ১০ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
গত রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টায় রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পাউবো এই পানি পরিমাপ করে।
রাজশাহী পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসের শেষের দিক থেকে রাজশাহীর পদ্মায় পানি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই সকাল ৯টায় পদ্মার পানি ছিল ১০ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার। এর এক সপ্তাহের মাথায় পানি বৃদ্ধি পায়। মাঝে ৭ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত পানি কিছুটা কমে ১০ দশমিক ৩৪ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হলেও ১০ জুলাই থেকে ফের বাড়তে থাকে পদ্মার পানি। ১০ জুলাই পানি প্রবাহিত হয় ১০ দশমিক ৪১ সেন্টিমিটারে এবং ১১ জুলাই শনিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটারে। যার ধারাবাহিকতায় রবিবার তা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা ছোট ছোট চরগুলোতে ইতিমধ্যেই পানি উঠতে শুরু করেছে। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে আসছে প্রচুর কচুরিপানা।
নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম বলেন, “গেল কয়েকদিন থেকে পদ্মায় পানি বাড়ছে। নতুন পানির সঙ্গে ভেসে আসছে কচুরিপানা। কচুরিপানা আসা মানেই পদ্মার পানি বাড়া। আষাঢ় মাসের শেষভাগ এখন, তাই পানি কমা-বাড়ার মধ্যে আছে। তবে শ্রাবণের শেষভাগে এসে প্রচুর পানি বাড়ে।”
পদ্মা পাড়ের সাতবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল বলেন, “বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি বাড়ে। তখন কচুরিপানা ভেসে আসে। বছরের অন্য কোনো সময় এভাবে কচুরিপানা আসতে দেখা যায় না।”
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক বলেন, “পদ্মার পানি বাড়ছে। যদিও বৃদ্ধির হার সামান্য, তবুও তা ঊর্ধ্বমুখী। রবিবার সকাল ৯টায় বড়কুঠি এলাকায় ১০ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাজশাহীতে পদ্মার বিপৎসীমা হলো ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৭ দশমিক ৬০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।”