সারাদেশে চলমান ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই, ২০২৬) প্রায় সারাদিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে মাঠপর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দিনভর প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও জরুরি বৈঠক ও আলাপ-আলোচনা করেন। তিনি বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা, সুষম ত্রাণ বণ্টন, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা নিতে আজ শনিবার (১১ জুলাই) ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে যাচ্ছেন।
এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসনকে বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের আবাসন ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার কঠোর নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি, দুর্যোগকালীন এই মানবিক সংকটের সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও টহলে থাকার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া উপদ্রুত এলাকার প্রতিটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই নিজ নিজ এলাকার বন্যাকবলিত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় স্তরে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন।