জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর গৌরবোজ্জ্বল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামাজিক বনায়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সারাদেশের মধ্যে ২য় শ্রেষ্ঠ উপকারভোগী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন দিনাজপুরের মোছা. রেহেনা খাতুন। তিনি দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন মধ্যপাড়া রেঞ্জের সদর বিটের একজন সফল নারী সদস্য।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে রেহেনা খাতুন অসুস্থতাজনিত কারণে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায়, তাঁর পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার গ্রহণ করেন তাঁর সুযোগ্য ছেলে। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত জমকালো এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ছেলের হাতে এই অনন্য পুরস্কার তুলে দেন।
দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোছা. রেহেনা খাতুন ২০০৪-০৫ অর্থবছরে সৃজিত সামাজিক বনায়নের একজন নিষ্ঠাবান উপকারভোগী। বনায়ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের পর লভ্যাংশ হিসেবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিনি এককালীন ৫ লাখ ১০ হাজার ৯৭৫ টাকা পেয়েছেন। এই লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের টিনের ঘর মেরামত করেছেন এবং একটি সেমিপাকা ভবন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে তিনি একটি গরু ও তিনটি ছাগল কিনেছেন এবং অবশিষ্ট অর্থ ছেলের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে সঞ্চয় করার পরিকল্পনা করেছেন।
জাতীয় পর্যায়ে রেহেনা খাতুনের এই অভাবনীয় সাফল্যে মধ্যপাড়া ফরেস্ট অফিসসহ দিনাজপুরের পুরো সামাজিক বন বিভাগে বইছে আনন্দের জোয়ার। মধ্যপাড়া রেঞ্জের সদর বিটের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসী এবং উপকারভোগী পরিবারটি জানিয়েছে, এই অর্জনের পেছনে মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আল-আমিন এবং সদর বিট কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম-এর আন্তরিক প্রচেষ্টা, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, রেহেনা খাতুনের এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেখে এলাকার আরও বেশি মানুষ সামাজিক বনায়নে উৎসাহিত হয়ে স্বাবলম্বী হবে এবং মধ্যপাড়া রেঞ্জ ভবিষ্যতেও জাতীয় পর্যায়ে তাদের এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে।