খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। আজ তিনি দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ঝড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক অনুদান ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
গত বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) রাতে আকস্মিক বজ্রসহ ঝড়ো হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের গিলাতলা মধ্যপাড়া, গাজীপাড়া ও শিরোমণি এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছিলেন অনেক পরিবার।
ভয়াবহ এই ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আজ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে যান জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত। তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষগুলোর সাথে কথা বলেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে গৃহহীন পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি দ্রুত সংস্কারের জন্য আর্থিক অনুদান এবং খাদ্যসহ জরুরি ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে এবং পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে জেলা প্রশাসকের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ফুলতলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ ইকবাল হোসেন, আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম, স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা এবং বিএনপি নেতা মো. ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের পর খোলা আকাশের নিচে চলে আসা পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসকের এই দ্রুত পদক্ষেপ এবং আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবেন।