২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ দুই যুগ (২৫ বছর) পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব কোনো প্রশাসনিক ভবন পায়নি রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভা। সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং বরাদ্দকৃত অর্থ তছরুপের অভিযোগে থমকে আছে এর স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ কাজ। ফলে বাধ্য হয়ে একটি ভাড়া করা সংকীর্ণ ভবনে চলছে পৌরসভার দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্যক্রম, যার দরুন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় নাগরিকেরা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে পুঠিয়া পৌরসভা গঠিত হলেও সীমানা সংক্রান্ত মামলার কারণে দীর্ঘদিন কোনো জনপ্রতিনিধি ছিল না। ফলে প্রশাসক দিয়েই এর কার্যক্রম চালানো হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এখানে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এর আগে ২০০৭ সালে পৌর ভবন নির্মাণের জন্য তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতায় সেই কাজ আর এগোয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, বিগত দুই মেয়রের আমলে ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা তছরুপ করা হয়েছে। বর্তমানে পৌরসভার তহবিল তলানিতে ঠেকে মাত্র ১৬ লাখ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
বর্তমানে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা আংশিক পরিশোধ করলেও বিপুল পরিমাণ ঋণের দায় নিয়ে চলছে পৌরসভার বর্তমান কার্যক্রম।
পৌরসভার ৮নং কাঁঠালবাড়িয়া ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুঠিয়া পৌরসভার ভবন কেন এখনও নির্মাণ হয়নি তা আমাদের বোধগম্য নয়। সাবেক মেয়রেরা ভবনের টাকা নিজেদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক কাজে লাগিয়েছেন বলেই আজ এই দশা।”
‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯’ এবং ‘ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ অনুযায়ী, পৌর ভবনের জন্য জমি নির্বাচন সরকারি খাস, অধিগ্রহণযোগ্য অথবা পৌরসভার নিজস্ব ক্রয়কৃত হতে হবে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, পুঠিয়া পৌর সদরে বেশ কিছু সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ উদ্যোগ নিয়ে অধিগ্রহণ করলেই সহজে ভবন নির্মাণ সম্ভব।
এ বিষয়ে পুঠিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “একটি আদর্শ পৌর ভবন নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ জমি প্রয়োজন, তা পৌর সদরের ভেতরে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পুঠিয়া সদর ইউনিয়ন কাউন্সিলের জায়গায় পৌর ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমতি পেলেই দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”