খুলনা মহানগরীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত থাকলেও তা বিতরণে চরম ধীরগতির কারণে কয়েক লাখ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সরকারি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঢাকা থেকে কার্ড আসতে ৩-৪ মাস সময় লেগে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন ট্রাক সেলের মাধ্যমে মহানগরীর মাত্র ৬ হাজার পরিবার টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছে, যেখানে মহানগরীতে মোট পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। ফলে অধিকাংশ পরিবার খোলা বাজার থেকে চড়া দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
আবেদন করেও মিলছে না কার্ড, পণ্য যাচ্ছে কোথায়?
দীর্ঘদিন ধরে কার্ডের অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকের অভিযোগ, আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পরও মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ঘুরেও তারা স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাচ্ছেন না।
এমনই একজন ভুক্তভোগী খুলনা মহানগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাহীন হোসেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে ওয়ার্ড অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও তিনি কার্ড পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রতিবারই বলা হয় পরে আসেন, কিন্তু কবে পাব কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। আমার কার্ড হয়েছে কিন্তু দিতে বিলম্ব হচ্ছে। কার্ড হাতে না পেলে পণ্য দেয় না, তাহলে আমার কার্ডের পণ্য কোথায় যাচ্ছে? বাজারে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, এই সময়ে টিসিবির পণ্য পেলে পরিবারের খরচ কিছুটা কমত। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত আশু প্রয়োজন।”
প্রশাসনিক ঘাটতি ও দুদক-জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু একজন নন, একই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন আরও অসংখ্য আবেদনকারী। কারও কার্ড প্রস্তুত হলেও বিতরণ হচ্ছে না, আবার কেউ আবেদন করার পর কোনো অগ্রগতির তথ্যই জানতে পারছেন না। সচেতন নাগরিকদের মতে, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড প্রস্তুত থাকার পরও দীর্ঘদিন বিতরণ না হওয়া প্রশাসনিক দুর্বলতা কিংবা ব্যবস্থাপনার ঘাটতির বড় প্রমাণ।
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির এই কঠিন সময়ে দ্রুত সব প্রস্তুত কার্ড বিতরণ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের নিয়মিত টিসিবির পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তথ্যসূত্র: মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা (ইমেইলে প্রাপ্ত সংবাদ)।