রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নের ধোপাপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় এক বৃদ্ধা মাকে তাঁর শেষ সম্বল কেড়ে নিয়ে বাড়ির বাইরে ফেলে দেওয়ার এক অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। যে মা একসময় ভিক্ষা করে ছেলেকে মানুষ করেছিলেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার পর সেই মায়ের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেয় তাঁর নিজের সন্তান। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের মানবিক হস্তক্ষেপে ওই বৃদ্ধা মা তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পেয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধা মা অত্যন্ত কষ্ট করে, ভিক্ষাবৃত্তি করে তাঁর ছেলেকে বড় করেছিলেন। কিন্তু মা বৃদ্ধ ও অসহায় হয়ে পড়লে তাঁর শেষ সম্বল একখণ্ড জমি নিজের নামে লিখে নেয় ছেলে। জমি লিখে নেওয়ার পর থেকেই মায়ের ওপর শুরু হয় চরম অবহেলা ও মানসিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধা মাকে নির্মমভাবে বাড়ির বাইরে ফেলে আসা হয়।
এসি ল্যান্ডের মানবিক উদ্যোগ:
ঘরছাড়া এই বৃদ্ধা মায়ের অসহায়ত্বের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড শিবু দাশের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিতে সাড়া দেন। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরহারা ওই বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করে আবারও তাঁর নিজ ভিটায় সসম্মানে তুলে দেন।
সরকারি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়েও শিবু দাসের এমন মানবিক উদ্যোগে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ঘরে এই বৃদ্ধা নারীকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে যাওয়া হলো, সেটি শুধু একটি ঘর নয়, এটি মূলত ওই মায়ের নতুন করে বাঁচার সাহস, সম্মান ও স্বপ্নের ঠিকানা।”
ভূমি কর্মকর্তার বক্তব্য:
এ বিষয়ে পুঠিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নেওয়া এই ছোট্ট উদ্যোগ যদি একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, তবে সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মানবতার হাতই পারে একটি জীবন বদলে দিতে।” তিনি সমাজের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এমন অসহায় ও প্রবীণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, এর আগেও পুঠিয়া উপজেলার এই ভূমি কর্মকর্তা একজন অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার বই কিনে দিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।