রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আশঙ্কাজনক ও মরণাপন্ন রোগীদের শরীরে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক নির্ধারণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে। রোগীদের ‘ব্লাড কালচার অ্যান্ড সেনসিভিটি’ পরীক্ষার জন্য এতোদিন যেখানে দীর্ঘ তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে তা সম্পন্ন হবে মাত্র দুই ঘণ্টায়।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে জীবনরক্ষাকারী এই সেবার জন্য ‘বায়োফায়ার ফিল্মঅ্যারে’ নামের একটি সর্বাধুনিক মেশিন আনুষ্ঠানিকভাবে সংযোজন করা হয়েছে।
যন্ত্রটির কার্যক্ষমতা ও গুরুত্ব:
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নবসংযোজিত এই যন্ত্রটি মূলত মাল্টিপ্লেক্স পিসিআর (PCR)-এর সর্বশেষ সংস্করণ, যা দ্রুততম সময়ে সংক্রামক রোগ নির্ণয়ে কাজ করে। মাত্র একটি পরীক্ষার মাধ্যমেই এটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীসহ ১০০টিরও বেশি রোগজীবাণু সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম। দেশের হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে এই প্রযুক্তি চালু থাকলেও রাজশাহীসহ পুরো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে এটিই প্রথম।
বিনামূল্যে মিলল ৬০ লাখ টাকার মেশিন:
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ আবু হেনা মুস্তফা কামাল এই অর্জন সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, “দীর্ঘ চার বছর ধরে সরকারি প্রক্রিয়ায় এই যন্ত্রটি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলাম। অবশেষে বাংলাদেশে এই যন্ত্রটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সফল আলোচনার পর, তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে সরবরাহ করেছে।”
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এই বায়োফায়ার মেশিনের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এই যন্ত্রের মাধ্যমে রোগজীবাণু শনাক্তকরণে প্রতিটি পরীক্ষায় রোগীর ১৬ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
উদ্বোধন ও চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া:
সম্প্রতি একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জীবনরক্ষাকারী এই যন্ত্রটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক দেবকিশোর গুপ্ত। উপস্থিত চিকিৎসকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, “রাজশাহীর গুরুতর ও আশঙ্কাজনক রোগীদের জীবাণু সংক্রমণজনিত চিকিৎসাসেবায় এটি একটি সর্বাধুনিক প্রয়াস। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের চিকিৎসাব্যবস্থায় দারুণ ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন করতে যে দীর্ঘ সময় অপচয় হতো, এই যন্ত্রের কল্যাণে এখন তা কয়েক ঘণ্টায় নেমে আসবে। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে বহু মরণাপন্ন রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হবে।