দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নথিপত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে।
বেতন বৃদ্ধির হার ও কাঠামো:
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি তিনটি পৃথক পে কমিশনের (বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী) সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেড পর্যন্ত ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া সামগ্রিক মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
বাস্তবায়নের রোডম্যাপ:
আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা আগেই দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এটি কীভাবে কার্যকর হবে তা নিয়ে দুটি বিকল্পের কথা ভাবছিল সরকার। অর্থ বিভাগের কারিগরি জটিলতা এড়াতে একবারেই মূল বেতন পুরোটা কার্যকর করার সুপারিশ থাকলেও, কমিটি সামগ্রিকভাবে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে।
বাজেট নথি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতা বাবদ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।