দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ১০টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ১০টি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আজ রবিবার (২৮ জুন) ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিশেষ পূর্বাভাস ও নদ-নদীর পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা ১০ জেলা:
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী— সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আগামী ৩ দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি ও বিপৎসীমা:
কুশিয়ারা নদী: আজ সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৯.৪৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা মৌসুমী বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানি আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
সতর্কসীমায় অন্য নদী: নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী বর্তমানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
স্টেশন পর্যবেক্ষণ: দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টি স্টেশনেই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৯টিতে কমেছে এবং ৫২টি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অববাহিকাভিত্তিক পূর্বাভাস:
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকা: গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী ৩ দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের আরও কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা পার হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা: আগামী ৫ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে।
তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার: রংপুর বিভাগের এই নদীগুলোর পানি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ঘটাতে পারে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা: পদ্মার পানি বাড়লেও আগামী ৩ দিন পর পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।
ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢল:
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ দিন দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ভেতর সর্বোচ্চ ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বান্দরবানের লামায়।
তবে মূল উদ্বেগ তৈরি করেছে ভারতের উজান থেকে আসা পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৩৯০ মি.মি., মাউসিনরামে ২৬৪ মি.মি., পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ১৬২ মি.মি. এবং অরুণাচলের পাসিঘাটে ১৫২ মিলিমিটার রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। উজানের এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি নেমে আসার কারণেই দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।