কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ, দুর্নীতি ও দালালদের সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিয়মের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা জমি কেনাবেচা ও দলিল সম্পাদন করতে এসে প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের মতে, এই অফিসে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে দলিল লেখক বা দালাল চক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের টাকা বা ‘স্পিড মানি’ (ঘুষ) দাবি করা একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কাগজের ছোটখাটো ভুলত্রুটি বা টেকনিক্যাল ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। সিন্ডিকেটের দাবি অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খাস কামরায় অনৈতিক লেনদেন: অতিরিক্ত ফি আদায়সহ অফিসের ভেতরে খাস কামরায় গোপন চুক্তিতে দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জমি কেনাবেচা, দলিল সম্পাদন এবং নামজারি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের সাথে বাইরে থাকা দালালদের একটি ওপেন সিক্রেট চুক্তি রয়েছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
যেভাবে কাজ করে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট: স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দৌলতপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পেছনে সক্রিয় এই সিন্ডিকেটকে মূলত তিনটি প্রধান পক্ষে চিহ্নিত করা যায়:
১. অসাধু দলিল লেখক ও মুহুরি সিন্ডিকেট: কিছু অসাধু দলিল লেখক সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভুল বুঝিয়ে বা আইনের জটিল নিয়মের দোহাই দিয়ে সরকারি ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করেন। তারা অফিস কর্মকর্তা ও ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন।
২. অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী: সাব-রেজিস্ট্রার, পিয়ন, নকলনবিশ (যারা দলিল নকল করেন) বা মোহরারদের একাংশের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বকশিস বা ঘুষ না দিলে তারা ফাইলে সই করতে চান না এবং বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখেন।
৩. বহিরাগত দালাল ও প্রভাবশালী চক্র: অফিস চত্বরে দিনভর সক্রিয় থাকে কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট বহিরাগত দালাল চক্র। এরা সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা কাজ দ্রুত করে দেওয়ার নাম করে জোরপূর্বক টাকা আদায় বা চাঁদাবাজি করে থাকে।
এই শক্তিশালী ত্রিভুজ সিন্ডিকেটের পারস্পরিক যোগসাজশ ও দুর্নীতির কারণেই সাধারণ মানুষ তাদের পৈতৃক বা ক্রয়কৃত জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আকস্মিক পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ নাগরিক।