বিভাগীয় প্রশাসনের চরম সমন্বয়হীনতা ও ক্রেডিট জটলা সংক্রান্ত জটিলতায় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগে। এর ফলে চার বছরের স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করেও ফলাফল না পেয়ে ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, সিএসই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে চার বছরের স্নাতকের আটটি সেমিস্টার সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। তবে পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুতের সময় প্রশাসনিক ভবন থেকে তা ফেরত পাঠানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য ন্যূনতম ১৬০ ক্রেডিট থাকা বাধ্যতামূলক হলেও, এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে দেখতে পান তাদের সম্পন্নকৃত মোট ক্রেডিট সংখ্যা মাত্র ১৫৮। সিলেবাসের এই ২ ক্রেডিটের ঘাটতির কারণে পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা: অনার্স শেষ করেও ফলাফল আটকে থাকায় ভবিষ্যৎ কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন চাকুরির পরীক্ষায় আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন ভুক্তভোগীরা। বিভাগের শিক্ষার্থী লিমন বলেন, “আমরা গত বছরের নভেম্বরেই পরীক্ষা শেষ করেছি। অনার্স সম্পন্ন করতে ১৬০ ক্রেডিট প্রয়োজন হলেও আমাদের বিভাগের সিলেবাসে মোট ক্রেডিটই ছিল ১৫৮। এই অতিরিক্ত ২ ক্রেডিটের প্রশাসনিক গ্যাঁড়াকলে আমাদের ফলাফল আটকে দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা বুঝতে পারছি না এই ক্রেডিট পূরণের জন্য আমাদের আবার নতুন করে ক্লাস করতে হবে কি না।”
ভুল স্বীকার করল বিভাগীয় প্রশাসন: সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল ইসলাম এই অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতার কথা স্বীকার করে বলেন, “এই সমস্যাটি কেবল ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই ঘটেছে। মূলত সিএসই বিভাগের অ্যাকাডেমিক কারিকুলামে ৪র্থ বর্ষে ৬ ক্রেডিটের একটি ইন্টার্নশিপ ছিল, যা হিসাব করলে মোট ক্রেডিট ১৬১ হতো। পরবর্তীতে অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে ওই ইন্টার্নশিপ কমিয়ে ৩ ক্রেডিট করা হয়। এতে মোট ক্রেডিট যে ১৫৮ হয়ে গেছে, তা পরীক্ষা কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়নি।” প্রতি শিক্ষাবর্ষে আলাদা আলাদা পরীক্ষা কমিটি থাকায় এই সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে দ্রুত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এটি সমাধানের আশ্বাস দেন।
অফিসিয়ালি জানেন না পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক:
অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের নিয়মানুযায়ী সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের স্পষ্ট নিয়ম থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগই তা মানছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এদিকে এই নিয়মতান্ত্রিক জটিলতার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অফিশিয়ালি অবগত নন এবং সিএসই বিভাগ থেকে তাকে এখনো লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।