নাম তাঁর হাসেম। রাজশাহীর বিনোদনপুর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয় তাঁকে। পেশায় তিনি একজন ভ্রাম্যমাণ স্যান্ডেল বিক্রেতা। একটি সাধারণ ভ্যানগাড়িতে ছোট-বড় হরেক রকমের স্যান্ডেল সাজিয়ে রাজশাহী শহরের ব্যস্ততম সাহেব বাজার এলাকার অলিতে-গলিতে ঘুরে ঘুরে স্যান্ডেল বিক্রি করেন তিনি। এই সামান্য ব্যবসার ওপর ভর করেই টেনেটুনে চলে তাঁর জীবন-জীবিকা, মেটে পরিবারের মৌলিক চাহিদা আর জোগাড় হয় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ।
রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবিরাম পথচলা: রাস্তায় ঘুরে ঘুরে স্যান্ডেল বিক্রি করা এই সাধারণ মানুষের দৈনিক জীবনটা মোটেও সহজ নয়। প্রচণ্ড রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে সাহেব বাজারের প্রতিটি গলিতে গলিতে তাঁকে ক্রেতা খুঁজে বেড়াতে হয়। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাকাওয়ালা ভ্যানটি ঠেলে ঠেলে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ চলতে হয় তাঁকে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘোরার পরও কাঙ্ক্ষিত স্যান্ডেল বিক্রি হয় না।

ক্লান্তিহীন মুখে এক অদম্য বাঁচার চেষ্টা: এই ব্যবসা থেকে হাসেম মিয়ার লাভ খুবই সীমিত ও সামান্য। যা দিয়ে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারের খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। তবে তীব্র শারীরিক ক্লান্তি, মানসিক চাপ আর তাপদাহের মধ্যেও হাসেম মিয়ার মুখে ক্লান্তি বা বিরক্তির রেখা দেখা যায় না। ক্রেতাদের সামনে গেলেই তাঁর মুখে ফুটে ওঠে এক চিলতে অমায়িক হাসি। সেই হাসিমুখেই চলে ক্রেতাদের সাথে দরদাম করা—যা মূলত চরম সংকটের মধ্যেও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার এক অদম্য চেষ্টা।
লুকিয়ে থাকা হাজারো স্বপ্ন:
দিনশেষে শরীর যখন আর চলতে চায় না, তখনও এই সামান্য আয়ের মাঝেই লুকিয়ে থাকে হাসেম মিয়ার পরম প্রশান্তি। সমস্ত কষ্ট ও হাড়ভাঙা খাটুনি নিমেষেই দূর হয়ে যায়, যখন দিনশেষে ঘরে ফেরার পর তাঁর উপার্জিত অর্থে সন্তানদের মুখে অনাবিল হাসি ফোটে। হাসেম মিয়ার মতো এই সততার কারিগররাই প্রমাণ করেন—কঠোর পরিশ্রম আর শত প্রতিকূলতার মাঝেও সততা টিকিয়ে রেখে জীবনসংগ্রামে জয়ী হওয়া সম্ভব।