“নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনব পরিবেশ রক্ষা করব”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর, বেলকুচি এবং বড়ধুল ইউনিয়নের যমুনা নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। আজ ২২ জুন (সোমবার) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
বিকেলে ৩টার দিকে উপজেলার বেলকুচি ইউনিয়নের মূলকান্দি বারোপাখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল এবং সিরাজগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশগত সমীক্ষা ও স্থানীয়দের মতামত: আলোচনা সভায় উপস্থিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের টিম এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ স্থানীয় জনসাধারণের উদ্দেশ্যে জানতে চান, ভাঙন কবলিত এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলে পরিবেশগত কোনো নেতিবাচক সমস্যা সৃষ্টি হবে কিনা। জবাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানান, এখানে বাঁধ নির্মাণ করলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং অতি দ্রুত যদি এই গাইড বাঁধ নির্মাণ করা না হয়, তবে রাজাপুর, বেলকুচি এবং বড়ধুল ইউনিয়নের কয়েক হাজার বসতবাড়ি, হাজার হাজার একর আবাদি জমি, স্কুল-মাদ্রাসাসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেই কাজ শুরুর আশা: স্থানীয়দের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সমাপনী বক্তব্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আয়ুব আলী বলেন, “আপনারা (স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন) সার্বিক সহযোগিতা করলে আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই স্থায়ী বাঁধের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে ইনশাল্লাহ।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেলকুচি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু হেনা ফকির, বেলকুচি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন ফকির, বড়ধুল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. শামীম হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং অত্র অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।