চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক-কর আদায়ের ঘাটতি প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করছে স্বয়ং এনবিআর। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বড় অঙ্কের এই ঘাটতি থাকলেও অর্থবছর শেষে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের শুল্ক-কর আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
গতকাল রবিবার রাতে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজস্ব আদায়ের এই হালনাগাদ ও সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করেছে এনবিআর।
রাজস্ব আদায়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান: এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২০ জুন পর্যন্ত (১১ মাস ২০ দিন) দেশে শুল্ক–কর আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ড আশা করছে, জুনের শেষ ১০ দিনে আরও অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে। এই লক্ষ্য পূরণ হলে বছর শেষে আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে।
কর আদায়ে তিন টাস্কফোর্স: রাজস্ব আদায়ের গতি আরও ত্বরান্বিত করতে এবং বকেয়া কর দ্রুত উত্তোলনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে এনবিআর। এই টাস্কফোর্সগুলো আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে কর আদায় বৃদ্ধিতে নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
বড় এই রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব কী?
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিলে সরাসরি সরকারের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের দুই– can তিন-চতুর্থাংশ অর্থের জোগান দেয় এনবিআর। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধসহ অত্যাবশ্যকীয় পরিচালন খরচ কমানোর কোনো সুযোগ সরকারের হাতে থাকে না।
ফলে অর্থের জোগানে টান পড়লে সরকার বাধ্য হয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও খরচ কমিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত অত্যন্ত কম, যা বর্তমানে মাত্র ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে। বড় এই ঘাটতির কারণে চলতি অর্থবছরের ২ লাখ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ ধীরগতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।