রাজশাহীর কোর্ট মোল্লাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে একাই বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সালমা বেগম। মাদকাসক্ত স্বামীর কাছ থেকে কোনো খোঁজ না মেলায় সংসার সামলাতে তিনি বেছে নিয়েছেন কঠিন পথ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরের তিনটি বাড়িতে কাজ করার পর, বিকেলে বাদাম, ছোলা ও মোটরদানা ভেজে সেগুলো ফেরি করে বিক্রি করেন এই সংগ্রামী নারী।
জীবনযাপনের প্রতিকূলতা: পাড়ায় পাড়ায় পায়ে হেঁটে ফেরি করে বিক্রি করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় বাকি দিতে হয়। সেই আক্ষেপ ও অভাবের তাড়নায় গত রাতে নগরীর মুক্তমঞ্চের জনসমাগমস্থলে একটু ভালো বিক্রির আশায় এসেছিলেন সালমা। কিন্তু সেখানে স্থানীয় বাদাম বিক্রেতারা তাঁকে বসতে দেননি। বাধ্য হয়ে রাস্তার এক কোণে বসে বিক্রি শুরু করেন।
সংগ্রামের চিত্র: রাত নয়টা পর্যন্ত কথা হয় সালমার সাথে। ততক্ষণে মাত্র দেড়শ টাকার বাদাম-ছোলা বিক্রি হয়েছে তাঁর। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, “আগে জানতাম না এরা এখানে বসতে দিবে না। তাহলে গাড়িভাড়া করে ওতদূর থেকে আসতাম না। এখন দেখছি এসে লস হবে।”
মানুষের জীবন কতই না অদ্ভুত! পেটের দায়ে আর সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সালমার মতো হাজারো মানুষ প্রতিদিন যে লড়াই করে যাচ্ছেন, তা অনুপ্রেরণার এক অনন্য উদাহরণ। জীবনের কঠিনতম পরীক্ষায় হার না মানা এই লড়াকু মায়ের গল্প আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কঠোর পরিশ্রমের মহিমা। সালমার এই জীবনযুদ্ধ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।