রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, বসতবাড়ির জায়গা দখল এবং জোরপূর্বক গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার ধোগ্রাকুল মৌজার ৩৭ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভুক্তভোগী সুকিন্দর সরকারের পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ১২ জুন সকালে প্রতিপক্ষ মোস্তফাসহ একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে বেআইনিভাবে তাদের জমিতে প্রবেশ করে।
ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি: ভুক্তভোগী রাসন্তি ও বাসন্তী জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দলবল নিয়ে এসে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করা হয়। ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের গহনা লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। বাধা দিলে তাদের মারপিট ও গালিগালাজ করা হয়। আরেক ভুক্তভোগী বাবলু সরকার জানান, হামলার সময় তারা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিলে পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
আইনি পদক্ষেপ: ঘটনার আগে থেকেই আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা জারি ছিল। হামলার পর ভুক্তভোগী সেলিনা সরকার বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য: অভিযুক্ত মোস্তফার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কাগজের দোহাই দিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তার স্ত্রী বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লিয়াকত সালমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিষয়টি জেনে খুব খারাপ লাগলো। আমি নিজে ঘটনাস্থল সরজমিনে পরিদর্শন করব এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।”