দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আজ সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম এবং সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
শাপলা চত্বর ও একরাম হত্যার সরাসরি সম্পৃক্ততা: প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদ যখন র্যাবের প্রধান ও পরবর্তীতে পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ছিলেন, তখন অসংখ্য অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি বেনজীরকে হেফাজতের শাপলা চত্বরের ঘটনার ‘অন্যতম কুশীলব’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের একরাম কমিশনার হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এই তদন্তগুলো এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিস ও দুবাইয়ে গ্রেপ্তার: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে পলাতক এই সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ জারি করা হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পুলিশ তাকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
চুক্তি না থাকলেও যেভাবে ফিরবেন বেনজীর: সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সরাসরি বন্দিবিনিময় (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি না থাকলেও দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রধান কৌঁসুলি জানান, ইউএই-এর নিয়ম অনুযায়ী এক্সট্রাডিশনের আবেদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সেখানকার প্রসিকিউটর বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বন্দিকে ফেরত পাঠানো হয়।
রিমান্ড ও কঠোর বিচারের প্রস্তুতি: বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পাশাপাশি চলমান মামলাগুলোতে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়েছে।