১২৫ বছরের গৌরবময় ইতিহাস, শত প্রাণের আকুতি আর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি মুড়াপাড়া পাইলট মডেল হাই স্কুলের ১২৫তম বর্ষপূর্তি উৎসব। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রূপগঞ্জ উপজেলা সদরের ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি সংলগ্ন ৩৩ বিঘার সবুজ ক্যাম্পাসে বসেছিল নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের এক ঐতিহাসিক মিলনমেলা।
ঐতিহাসিক মিলনমেলা ও আবেগঘন পরিবেশ: ‘এসো মিলি হৃদয়ের টানে’ এবং ‘১২৫তম বর্ষে শত প্রাণ, বাজুক মনে ঐকতান’—এই দ্বৈত স্লোগানকে ধারণ করে গতকাল সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পাঁচ সহস্রাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণ। বহু বছর পর প্রিয় শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে এবং মেতে ওঠেন স্মৃতিকাতর আড্ডায়।
বিদ্যাপীঠের গৌরবময় ইতিহাস: ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ দীর্ঘ এক শতাব্দী ধরে অঞ্চলে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভাষাতাত্ত্বিক ডক্টর কাজী দীন মুহাম্মদ এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। এছাড়া দেশের প্রথম সেনাপ্রধান ও ৩ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে, এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম) সহ বহু দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব এই স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র বলে অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন বক্তারা। উৎসবের স্মরণিকা হিসেবে ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’ নামক একটি বিশেষ স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়।
মূল আলোচনা ও অতিথিবৃন্দের বক্তব্য: বর্ষপূর্তি উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজে মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ গোলাম ফারুক খোকন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু। তিনি বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১২৫ বছর পার করা শুধু সময়ের পরিমাপ নয়, এটি ঐতিহ্য ও সাফল্যের প্রতিফলন। সমাজ গঠনে ভালো মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।” বিশেষ অতিথি হিসেবে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম এবং রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
কনসার্ট ও আতশবাজির ঝলকানি: আলোচনার পাশাপাশি প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া করা হয়। বিকেলের পর শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় ভাগ, যার মূল আকর্ষণ ছিল কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, জাদু প্রদর্শনী ও দেশের নামি ব্যান্ডের পরিবেশনায় এক জমকালো লাইভ কনসার্ট। সবশেষে রাতের আকাশে বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানি এবং উপস্থিত সবার করতালির মধ্য দিয়ে শেষ হয় রূপগঞ্জের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আনন্দ-যজ্ঞ।