গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত অতিরিক্ত ভূমি রেজিস্ট্রি ‘উৎস করের’ অনৈতিক বোঝা প্রত্যাহার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), কর্তব্যরত সাব-রেজিস্ট্রার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নানামুখী চেষ্টা ও লেখনীর পরও এই করের বোঝা কমেনি। উল্টো আগামী ১ জুলাই থেকে হেবা ও দানপত্রের ওপরও নতুন করে উৎস কর আরোপের গেজেট প্রকাশ করায় কালীগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্থবির হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হেবা ও দানপত্রে নতুন করের ধাক্কা: স্থানীয় ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কালীগঞ্জে আগে থেকেই সাধারণ মানুষের ওপর অনৈতিকভাবে উচ্চ উৎস কর চাপিয়ে দেওয়া ছিল। এরপরও মানুষ হেবা (পারিবারিক দান) ও দানপত্রের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের মাঝে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি সুযোগ পেতেন। কিন্তু সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী পহেলা জুলাই থেকে হেবা ও দানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত উৎস কর কার্যকর হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নিজের জমি হস্তান্তর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা কালীগঞ্জবাসীকে বিপুল সমস্যার মুখে ফেলবে।
ডেভেলপার ও কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন গেজেট: অন্যদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে ডেভেলপার ও বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর জন্য পূর্বের উৎস কর বহাল রেখে সেটিকে ৫ শতাংশ (5%) নির্ধারণ করে নতুন গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটিও আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুরোপুরি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
পুনর্বিবেচনার দাবি: কালীগঞ্জ থানা প্রেসক্লাব এবং উপজেলার সর্বসাধারণের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কালীগঞ্জবাসীর ওপর যে অন্যায় ও অযৌক্তিক করের বোঝা চাপানো হয়েছে, তা অবিলম্বে নতুনভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। উপজেলার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এই প্রজ্ঞাপন পুনর্বিবেচনা করে সঠিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ।