মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ আয়োজনে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের মাঝেই এক রোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মেক্সিকোতে নির্ধারিত ইরান ফুটবল দলের অনুশীলন ভেন্যুর ঠিক উল্টো পাশে পার্ক করে রাখা একটি বিলাসবহুল গাড়ির ভেতর থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শুক্রবার (১২ জুন) ঘটনাস্থলে উপস্থিত আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে মিলল মরদেহের সন্ধান: বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলার কথা থাকলেও বৈরী রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে মেক্সিকোর তিহুয়ানা শহরের কালিয়েন্তে স্টেডিয়ামে বেজক্যাম্প ও অনুশীলন করছে ইরান দল। শুক্রবার স্টেডিয়ামের ঠিক উল্টো দিকে একটি সুপারমার্কেটের পার্কিং লটে ক্যালিফোর্নিয়ার নম্বরপ্লেট-সংবলিত ধূসর রঙের একটি টয়োটা এসইউভি গাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ। গাড়ির পেছনের ডালা (ট্রাংক) খুলতেই কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো এবং আঘাতের চিহ্নযুক্ত এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ বেরিয়ে আসে।
তীব্র গরমে দ্রুত পচন: তিহুয়ানার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল প্রথমে এই লাশের সন্ধান পায়। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটি গত বুধবার থেকে ওই পার্কিং লটে ফেলে যাওয়া হয়েছিল। গত কয়েক দিন ধরে শহরের তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় এবং দিনভর তীব্র রোদের কারণে মরদেহটিতে অত্যন্ত দ্রুত পচন ধরে এবং তা গলে যায়। অপরাধ তদন্ত বিশেষজ্ঞরা গাড়ি ও লাশ পরীক্ষা করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছেন।
তিহুয়ানার অপরাধের কুখ্যাতি: মেক্সিকোর শক্তিশালী মাদক চক্রগুলোর (ড্রাগ কার্টেল) দাপট এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তঘেঁষা তিহুয়ানা শহরটি কুখ্যাত। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই এই শহরে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরান দলের ভেন্যুর পাশে এমন ঘটনা বিশ্বকাপের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কড়া পাহারায় ইরান দল: চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেজক্যাম্প করার কথা থাকলেও পরে তা মেক্সিকোয় স্থানান্তর করে ইরান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই সশস্ত্র সেনাদের কড়া পাহাড়ায় হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে আনা-নেওয়া করা হচ্ছে ইরানি ফুটবলারদের। গতকাল ভেন্যু থেকে লাশ সরিয়ে নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় বিশেষ নিরাপত্তারক্ষী ও সেনাবহর নিয়ে ফুটবলারদের গাড়িটি স্টেডিয়াম ত্যাগ করে। এই ঘটনার পর দলের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে ইরান ফুটবল দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।