সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ২নং রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা ও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা মো: আবু হোসেন। রাজপথের এই লড়াকু সৈনিক ইউনিয়নটিকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৮ দফার এক মহাপরিকল্পনা বা রূপরেখা ঘোষণা করেছেন।
রাজনৈতিক পরিচিতি ও ত্যাগ: মো: আবু হোসেন ছাত্ররাজনীতির সূচনালগ্ন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ১৯৯৭ সালে বেলকুচি উপজেলা ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক, ২০০২ সালে রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং পরবর্তীতে ২০১০ সালে মালয়েশিয়া পিনাং শাখা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি জাসাস-এর সভাপতি ও শিসউক যমুনা গ্রাম থিয়েটার ক্লাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন।
প্রবাসী, শিশু ও দুস্থদের সুরক্ষায় ইশতেহার: আবু হোসেন তার নির্বাচনী রূপরেখায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বিশেষ ‘অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্র’ (হেল্প ডেস্ক) চালু এবং বিদেশফেরতদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করেছেন। এছাড়া শিশুশ্রম বন্ধ করে অসচ্ছলদের জন্য ‘শিক্ষাবৃত্তি তহবিল’ গঠন এবং মধ্যস্বত্বভোগী দূর করে বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ও হয়রানিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অবকাঠামো, কৃষি ও কর্মসংস্থান উন্নয়ন: নির্বাচনী ইশতেহারে যমুনা তীরবর্তী এই ইউনিয়নের নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আধুনিক বর্জ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য আধুনিক কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, বেকার তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে এগিয়ে নিতে বিনামূল্যে ইন্টারনেট জোন ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
সুশাসন ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার: আবু হোসেন জানান, নির্বাচিত হলে তিনি গ্রাম আদালতকে সম্পূর্ণ কার্যকর ও নিরপেক্ষ করবেন, যাতে যেকোনো সাধারণ নাগরিক অন্যায় বা অবিচারের শিকার হলে দ্রুততম সময়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আইনি প্রতিকার পান। তিনি স্পষ্ট করেন, তার রাজনীতি কেবলই মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য এবং রাজাপুরকে একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বদ্ধপরিকর।