চট্টগ্রামে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে দুই গণমাধ্যমকর্মীসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল রাতে চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রতিবাদে সড়কে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং মুহূর্তেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরবর্তীতে এই সংঘাতের পরিস্থিতি টোল প্লাজা হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ:
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহাসড়ক সচল করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই সাংবাদিকসহ তিনজন আহত হন। এ ছাড়া রাতভর থেমে থেমে চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হলে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
হাসপাতালে মেয়র শাহাদাত:
এদিকে ঘটনার পরপরই রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান। তিনি সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন আহত সাংবাদিক এবং স্থানীয়দের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।