সরকার পরিবর্তন হলেও রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি। বিশেষ করে লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন বাসের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক বদলালেও আগের মতোই চলছে চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব।
সিন্ডিকেটের নতুন সমীকরণ:
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৬ বছর যারা পরিবহন খাত জিম্মি করে রেখেছিল, তাদের পতনের পর নতুন মুখ আসীন হয়েছে। আওয়ামীপন্থি ব্যবসায়ীদের কোম্পানিগুলো এখন নতুন নামে বা ভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের মদতে পরিচালিত হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক ও মাদকাসক্ত হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং গেট পাসের নামে টাকা আদায়ের সংস্কৃতিতে কোনো বদল আসেনি।
মরণফাঁদে পরিণত নগরী:
রাজধানীর সড়কগুলোতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভাঙা জানালা, রংচটা শরীর আর বিকট শব্দে ধোঁয়া নির্গত করা বাসের ছড়াছড়ি। অনেক বাসের হেডলাইট নেই, ইন্ডিকেটর অকেজো, এমনকি সিটগুলোও বসার অযোগ্য। বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়া যাত্রীদের কাছে নিত্যদিনের ভোগান্তি। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এসব বাস মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মত:
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, “একটি দেশ কতটা সভ্য তা বোঝা যায় তার গণপরিবহন ব্যবস্থা দেখে। রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও লক্কড়ঝক্কড় বাসের উপস্থিতি ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পুলিশ ও বিআরটিএকে লোকদেখানো কাজ বাদ দিয়ে প্রকৃত শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে।” সম্প্রতি ট্রাফিক ব্যবস্থা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ প্রদান করেছেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি:
বিআরটিএ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফিটনেস যাচাই ছাড়াই সনদ দেওয়া হয়। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, ফিটনেসবিহীন বাস জব্দ ও ড্যাম্পিং করার কাজ নিয়মিত চলছে। জনসচেতনতা তৈরি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছে পুলিশ।
নগবাসী যখন আধুনিক স্মার্ট সিটির স্বপ্ন দেখছে, তখন সড়কে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের উপস্থিতি চরম বৈপরীত্য তৈরি করছে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই লক্কড়ঝক্কড় বাস উচ্ছেদ এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।