পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। জিলহজ মাসের প্রথম দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নফল আমল হলো—চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত শরীরের চুল, নখ ও মোঁচ না কাটা। যারা এবার কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করেছেন, তাঁদের জন্য এই আমলটি করা মুস্তাহাব বা সওয়াবের কাজ।
হাদিসের নির্দেশনা:
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যখন জিলহজের প্রথম দশক শুরু হবে, তখন তোমাদের মধ্যে যে কোরবানি করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।” (সহিহ মুসলিম)। এছাড়া যারা কোরবানি দিতে পারছেন না, তারাও যদি এই নিয়ম মেনে কোরবানির দিন চুল-নখ কাটেন, তবে আল্লাহ তাদের পূর্ণ কোরবানির সওয়াব দান করবেন বলে হাদিসে বর্ণিত আছে।
সময়সীমা ও প্রস্তুতি:
বাংলাদেশে আগামী ১৮ মে সোমবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়, তবে ১৯ মে মঙ্গলবার থেকে জিলহজ মাস শুরু হতে পারে। সে হিসেবে মুমিনদের উচিত সোমবার সন্ধ্যার আগেই নখ কাটা, চুল ছাঁটা বা নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করে নেওয়া।
জরুরি কিছু সতর্কতা:
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো ৪০ দিন। যদি চুল-নখ না কাটলে এই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। কারণ পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ এবং ৪০ দিনের বেশি নখ বা চুল রাখা অনুচিত। তবে কোরবানিদাতার জন্য এই আমলটি আবশ্যকীয় বা ফরজ নয়; এটি করলে সওয়াব আছে, না করলে গুনাহ হবে না।