চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, নতুন এই ডেরিভেটিভস বাজার চালুর জন্য তারা ইতিমধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এই কার্যক্রমটি পুরোপুরি শুরু করতে ভবিষ্যতে আরও কিছু বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। মূলত ২০২৩ সাল থেকেই এই এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতি চলছে। গত বছরের মধ্যেই এটি চালু করার লক্ষ্য ছিল, তবে কিছু কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই বছরই এটি চালুর ব্যাপারে আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি।
কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা স্পষ্ট করতে গিয়ে সিএসই চেয়ারম্যান জানান, এখানে সাধারণ বাজারের মতো পণ্য কেনাবেচা হয় না। বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ‘ফিউচার কন্ট্রাক্ট’ বা ভবিষ্যৎ চুক্তির লেনদেন করা হয়। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পাওনা মেটানোর জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। একটি হলো ‘ক্যাশ সেটেলমেন্ট’ বা নগদ অর্থের মাধ্যমে লেনদেন শেষ করা। অন্যটি হলো ‘স্পট’ বা সরাসরি পণ্য সরবরাহ করা। সাধারণত এই বাজারে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লেনদেন সরাসরি পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে শেষ হয় এবং বাকি সব নিষ্পত্তি হয় নগদ অর্থের বিনিময়ে।
শুরুতে বিভিন্ন জটিলতা এড়াতে সিএসই শুধুমাত্র নগদ অর্থ লেনদেনের পদ্ধতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরাসরি পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে গুদামজাতকরণ এবং পণ্যের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার মতো বড় ধরনের বিনিয়োগ ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সিএসই এই বিষয়টিকে তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনায় রেখেছে। তবে বর্তমান কারিগরি প্রস্তুতি এমনভাবে নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমেই সরাসরি পণ্য সরবরাহের সুবিধাটি যুক্ত করা সম্ভব হয়।