মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি-ছয়চার সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সংস্কার বা নির্মাণের পরদিনই সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ ও পাথরের আস্তরণ উঠে গিয়ে নিচের স্তর দৃশ্যমান হওয়ার ছবি ও তথ্য সামনে এসেছে। এ ঘটনায় কাজের মান, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও প্রকল্প তদারকি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এমনকি এই অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টারও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার বড়খড়ি-ছয়চার এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত মিস্ত্রি অন্তর হোসেন জানিয়েছেন, কাজটির মূল ঠিকাদার বাকেরুল হলেও তারা নান্নুর কাছ থেকে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি নিয়ে পরিচালনা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের একটি অংশে পিচ ও পাথরের স্তর ভেঙে উঠে গেছে এবং অনেক স্থানে নিচের বালু-মাটি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সড়ক নির্মাণে বিটুমিনের সঠিক মাত্রা, প্রয়োজনীয় বন্ধন এবং রোলার দিয়ে যথাযথ কম্প্যাকশন বা মজবুত করার কথা থাকলেও এখানে তার মারাত্মক ব্যত্যয় ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ত্রুটির কারণে সড়কটি উদ্বোধনের আগেই টেকসই ক্ষমতা হারিয়ে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, এই অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় কাজটিতে অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং হামলার আশঙ্কা তৈরি করা হয়।
এ বিষয়ে এলজিইডির সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. আব্দুর সাত্তার সড়কটির ১ হাজার ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের কথা স্বীকার করলেও কাজটির চুক্তিমূল্য বা বিস্তারিত প্রাক্কলন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আ.ন.ম. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “নিম্নমানের কাজের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জনগণের ট্যাক্সের অর্থে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দীর্ঘস্থায়িত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা।