মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের বাইরে যে তাদের সৌহার্দ্য অতুলনীয়, সেটাই যেন আবারও প্রমাণ করলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি।
মেসির খেলায় মুগ্ধতা ও ফ্রি-কিক ট্রিকস: রবার্তো কার্লোস বলেন, “মেসির খেলা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। মেসি বর্তমানে লাতিন আমেরিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।” নিজের সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফ্রি-কিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত কার্লোস মেসির সেটপিসের প্রশংসা করে বলেন, “মেসি ফ্রি-কিক ও সেটপিসে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করেছে। আর্জেন্টিনা কিংবা ইন্টার মায়ামি—দুই দলেই সে ফ্রি-কিক থেকে নিয়মিত গোল করছে।”
মেসির শেষ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে: চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কার্লোস জানান, এই মহোৎসব মেসির মনভরে উপভোগ করা উচিত। কারণ এটিই সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ। তবে মেসি ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপেও খেলতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নে কার্লোস সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে বলেন, “খেলতেই পারে। নিজের শরীরের সঠিক যত্ন নিলে এটি অসম্ভব কিছু নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে ব্রাজিলেও মেসির অসংখ্য ভক্ত রয়েছে, যা ফুটবলের আধুনিক ও পরিবর্তিত বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ।
সেলেসাওদের হেক্সা মিশন ও কার্লোসের টোটকা: ২০০২ সালের পর দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বিশ্বকাপের খোঁজে থাকা ব্রাজিল দলের সম্ভাবনা নিয়ে কার্লোস বলেন, “মাঠে নেমে আবেগ ও দায়বদ্ধতা দেখাতে হবে, দেশের জার্সির মর্যাদা বুঝতে হবে। আমাদের কোচ ও খেলোয়াড়রা মানসম্পন্ন; সবাই সেরাটা দিলে ফাইনালে ওঠা সম্ভব।” অনেকেই এবার ব্রাজিলকে ফেভারিট না ভাবলেও কার্লোস উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, “ফেভারিট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়, বিশ্বকাপে যারা সবচেয়ে কম ভুল করবে, শেষ পর্যন্ত তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে।”
নেইমারকে নিয়ে কার্লোসের মূল্যায়ন: ব্রাজিলের বর্তমান পোস্টার বয় নেইমার প্রসঙ্গে সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, “প্রথমে দেখতে হবে নেইমার পুরোপুরি ফিট কি না, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সে অনেক চোটে ভুগেছে। তবে ব্রাজিলের স্কোয়াডে নেইমারকে ভীষণ প্রয়োজন—সে মূল একাদশে খেলুক কিংবা বেঞ্চে থাকুক। আর সে যদি মাঠে নামতে পারে, তবে তা অবশ্যই দেখার মতো কিছু হবে।”