জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক অফিসিয়াল পোস্টে তিনি এই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অনেক অনেক অভিনন্দন।”
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব:
এই ঐতিহাসিক অর্জনকে দেশের জন্য এক বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক ও অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সংযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।” একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই নতুন এবং অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পদে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
ভোটের রোমাঞ্চকর লড়াই ও জয়:
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ১৯০টি সদস্য রাষ্ট্র ভোট প্রদান করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের বিশিষ্ট কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। ফলে ৮ ভোটের ব্যবধানে সাইপ্রাসকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ পদটি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতির আসনে বাংলাদেশ:
আন্তর্জাতিক কার্যসূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এরপর আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক বা ‘জেনারেল ডিবেট’। আর এক বছর মেয়াদী এই পুরো অধিবেশনে সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
এই গৌরবের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছে কোনো বাংলাদেশি প্রতিনিধি। এর আগে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির গৌরবময় দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।