শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশীয় খুনিদের দ্রুত চিহ্নিত করা, বিদেশে পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সাথে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের যোগসূত্র বা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে গভীর ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে এই বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাস ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওসমান হাদির সমাধিস্থলের সামনের রাস্তায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ৭ দিন অর্থাৎ আগামী শুক্রবারের মধ্যে সরকার যদি হাদি হত্যাকারীদের নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারে কিংবা তাদের বিচার নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে ইনকিলাব মঞ্চ।
”এই বিচার প্রক্রিয়া কি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে?”:
বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নির্বাচিত সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যে তিন মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এখন পর্যন্ত সরকার ওসমান হাদির বিচারের ব্যাপারে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা রোডম্যাপ দেশের মানুষের সামনে প্রণয়ন করতে পারেনি। সরকার বারবার কেবল একটি কথাই বলছে যে, হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা স্পষ্ট জানতে চাই, এই প্রক্রিয়া কি কিয়ামত পর্যন্ত চলবে?’
তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল সেই স্পর্শকাতর বক্তব্যকে আমলে নিয়ে এর অন্তরালে থাকা সত্য–মিথ্যা ঘটনা ও যোগসূত্র উদ্ঘাটন করার। কিন্তু তা না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত হালকাভাবে বললেন যে, পরাজিত প্রার্থীর কোনো কথা তাঁরা আমলে নিচ্ছেন না’।
ইনকিলাব মঞ্চের ২ দফা স্পষ্ট দাবি:
আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে তাঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন করে আর কোনো আলটিমেটাম বা দফা দেবেন না, বরং এখন সরকারকেই আলটিমেটাম দিতে হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দুটি বিষয়ে স্পষ্ট জবাব শুনতে চান:
১. প্রথমত, জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার একটি স্বাধীন তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘ আসলে এই তদন্তের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে নাকি তারা কোনো বারণ বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে— তা পরিষ্কার করে সরকারকে জানাতে হবে।
২. দ্বিতীয়ত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে এটা সুস্পষ্ট যে হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত ও বাংলাদেশের এক গভীর অপরাধমূলক যোগসূত্র বা লিয়াজোঁ রয়েছে। তাই অনতিবিয়নের এই খুনের বিচার দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করতে সরকারকে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
দাবি পূরণ না হলে ইনকিলাব মঞ্চ সামনে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দিয়ে রাজপথে অবস্থান নেবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।