গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আশ্বাস দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিজেকে বিকশিত করার জায়গা। এখানে শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত থাকে। ক্যারিয়ার গঠন, উচ্চশিক্ষা, সরকারি চাকরি কিংবা খেলাধুলা, কে কোন পথে এগিয়ে যেতে চান, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর ধারণা ছিল গোপালগঞ্জ তথা এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও উন্নত হবে। কিন্তু এখানে নানা ধরনের সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্বমানের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও অডিটরিয়াম সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সংকট দূর করার পাশাপাশি আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
ক্যাম্পাস যেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ থাকে, সে বিষয়েও বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের পরিবেশ অশান্ত করতে পারে এমন কোনো অপশক্তি বা সংগঠনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ৫৫ একরের ক্যাম্পাসকে শিগগিরই ২০০ একরে উন্নীত করার চেষ্টা চলছে।
ইতোমধ্যে ৩২টি স্থায়ী শিক্ষক পদে নিয়োগের অনুমতি পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে দ্রুত শিক্ষক সংকট অনেকটাই দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি র্যাগিংমুক্ত, নিরাপদ ও আনন্দময় ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপাচার্য।
গোবিপ্রবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দসহ পাঁচ শতাধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
নবীনবরণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।