দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মোংলা বন্দর বণিক সমিতির দ্বিবার্ষিক সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে মোংলা বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন পর ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রার্থীরা বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শুরু করেন। মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ পর্যায়ে মোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে ৪ জন, সহসভাপতি পদে ৪ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন, সহসাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ২ জন, প্রচার সম্পাদক পদে ২ জন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরও ১৩ জন। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেতৃত্বের সংকট ও নানা বিষয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন সমস্যা, লাইসেন্স নবায়ন, কাস্টমস ও বন্দরসংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে কার্যকরভাবে দাবি তুলে ধরতে একটি শক্তিশালী নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন ভোটাররা।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তারা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সমিতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ব্যবসায়ীদের অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটিকে বণিক সমিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভোটারদের প্রত্যাশা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে এবং নতুন কমিটি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব ছাড়াই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১২ অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে মোংলা বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখন চলছে প্রার্থী ও ভোটের হিসাব-নিকাশ।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ক্রমেই বাড়ছে।