দাম্পত্য জীবনে নানা স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের মানুষের দেখা মেলে। অনেক স্বামীর ক্ষেত্রেই দেখা যায় তিনি কিছুটা ‘মামা’স বয়’ বা মায়ের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বাইরে থেকে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও সংসারে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাবই পড়তে পারে।
মামা’স বয় চেনার প্রধান লক্ষণসমূহ:
মায়ের রান্নার তুলনা: স্ত্রী যতই ভালো রান্না করুন না কেন, সর্বদা মায়ের রান্নার প্রশংসা ও তুলনা করা।
কাজে অতি-নির্ভরতা: বয়সের সাথে নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস না হওয়া, যেমন এখনও মায়ের জামাকাপড় ধুয়ে দেওয়া।
মায়ের ফোনে সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা: কখন অফিসে পৌঁছালেন বা দুপুরে খেলেন কি না—এসব নিয়ে মায়ের ঘনঘন ফোন আসা এবং কথা না হলে অস্বস্তিতে ভোগা।
আচরণগত পরিবর্তন: স্ত্রী বা অফিসে আত্মবিশ্বাসী হলেও মায়ের সামনে গেলে শিশুর মতো আচরণ করা।
দাম্পত্যের কথা মাকে জানানো: দাম্পত্যের গোপন বিষয় বা ক্ষোভ নিয়মিত মায়ের কাছে প্রকাশ করা ও নালিশ করা।
ইতিবাচক দিক ও সুবিধাসমূহ:
মায়ের সান্নিধ্যে বড় হওয়ার কারণে এরা নারীদের সম্মান করতে ও তাদের আবেগ সহজে বুঝতে পারেন। পাশাপাশি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার ক্ষেত্রেও এদের বিশেষ গুণ দেখা যায়।
নেতিবাচক দিক ও চ্যালেঞ্জসমূহ:
এ ধরনের স্বামীদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের গোপনীয়তার অভাব তৈরি হয়। যেকোনো পারিবারিক বিরোধে নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে অন্ধভাবে মায়ের পক্ষ নেওয়া এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া দাম্পত্যের নিজস্ব একান্ত সময় কমে গিয়ে সম্পর্কে একঘেয়েমি আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘মামা’স বয়’ স্বভাবের কারণে সংসারে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও পারস্পরিক খোলামেলা আলোচনা ও ইতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
(সূত্র: বুমার ম্যাগাজিন)