গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার মাত্র এক দিনের মাথায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। তীব্র সমালোচনার মুখে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামের চাপ থেকে রেহাই দিতে আবাসিকের প্রথম দুই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ফলে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ আগের দামেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালের মধ্যেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক সংশোধনীর ঘোষণা দিতে পারে।
আবাসিক খাতের ‘লাইফলাইন’ (০ থেকে ৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০ থেকে ৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য বাড়তি দাম প্রত্যাহারের লিখিত আবেদন করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আজ বিইআরসির কাছে এই বিশেষ আবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন দ্রুত সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, “সব কোম্পানির পক্ষ থেকে দুই শ্রেণির গ্রাহকের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি। বিষয়টি কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়েছে। এখন আলাদা করে বিতরণ কোম্পানিগুলোর সাথে কারিগরি আলোচনা চলছে, দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।”
যারা পাচ্ছেন এই স্বস্তি (ইউনিট ও বিলের হিসাব):
গতকাল বুধবার ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী, আবাসিকে প্রান্তিক বা লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ টাকা ৩২ পয়সা, যা আগের চেয়ে ৬৯ পয়সা বেশি ছিল। এতে দরিদ্র মানুষের মাসে বিল বাড়ত প্রায় ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।
অন্যদিকে, ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি নতুন দাম করা হয়েছিল ৬ টাকা ১৮ পয়সা, যেখানে ইউনিট প্রতি বেড়েছে ৯২ পয়সা এবং মাসে বাড়তি বিল আসত ৬৯ টাকা।
আজকের সংশোধনী চূড়ান্ত হলে:
লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) গ্রাহকেরা আগের দামেই অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সায় বিদ্যুৎ পাবেন।
প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকেরা আগের দাম অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সায় বিল পরিশোধ করবেন।
উপকৃত হবেন ৬৫ শতাংশ গ্রাহক:
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট আবাসিক বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এরা মূলত প্রান্তিক অঞ্চলের ও শহরের নিম্নআয়ের মানুষ, যারা বাসায় সাধারণত একটি বা দুটি বাতি এবং একটি ফ্যান ব্যবহার করেন। গতকাল পাইকারিতে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং খুচরায় ১৬.৬৮ শতাংশ দাম বাড়ানোর পর এই দরিদ্র শ্রেণির ওপর বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭৮১ কোটি টাকার আর্থিক বোঝা চেপে বসেছিল, যা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে।