জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বস্তি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎস কর কমানোর পাশাপাশি বেশ কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও রাজস্ব বাড়াতে কিছু পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে:
নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যপণ্য: ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎস কর কমানো হয়েছে। এছাড়া শিশু খাদ্য, খেজুর, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভোজ্যতেল, কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম কমবে।
ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি: কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটর, ওয়াশিং মেশিন (ছোট), মাইক্রোওয়েভ ওভেন, স্মার্ট কার্ড এবং ব্যাংক কার্ড।
মোবাইল ও কনটেন্ট খাত: মোবাইল সেবা, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামাল, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং স্টার্টআপ ব্যবসা।
সবুজ জ্বালানি ও পরিবহন: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইলেকট্রিক বাস, ইলেকট্রিক ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশন স্থাপনে বড় করছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌর বিদ্যুৎ (সোলার প্যানেল) স্থাপনে খরচ কমবে।
চিকিৎসা ও অন্যান্য: কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল এবং মরদেহ সংরক্ষণের মর্চুয়ারি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বিলাসবহুল ও অন্যান্য সামগ্রী: স্বর্ণ, স্বর্ণালঙ্কার সামগ্রী, ডায়মন্ড, টায়ার ও টিউব। এছাড়া ১০০ শতাংশ রপ্তানিমুখী খাতকে কাস্টম বন্ড বা শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে:
নির্মাণ ও উৎপাদন শিল্প: এমএস রড, কাগজ উৎপাদনের কাঁচামাল, ডিটারজেন্ট, কপার তার এবং কপার টিউব।
নেশাজাতীয় পণ্য ও অ্যালকোহল: সিগারেট (১০ শলাকার নিম্ন স্তর ৬২ টাকা, মধ্য স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণ)। এছাড়া দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহল বা মদে প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের কারণে দাম বাড়বে।
আমদানিকৃত ও বিলাসী খাদ্য: কাজুবাদাম, উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ, পাঙ্গাস মাছের ফিলেট এবং সুগন্ধি বৃক্ষ নির্যাস।
অন্যান্য পণ্য: বাইসাইকেল, বড় ধরনের আমদানিকৃত ওয়াশিং মেশিন, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং নিকোটিন পাউচ।