কালান্তর নিউজ ডেস্ক
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

প্রশ্নফাঁসে ড্রাইভার আবেদ আলোচিত, মূল হোতারা কোথায়? ছেলের ৪ বছরের সাজায় নতুন প্রশ্ন

আজ ১৫ অক্টোবর  বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আলোচিত সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই রায় ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পিএসসির প্রশ্নফাঁসের মূল মামলার অগ্রগতি এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির প্রশ্ন।

সিয়ামের বিরুদ্ধে যে মামলায় সাজা

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর এ রায় দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সিয়াম ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

সিয়াম সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তাকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সিয়ামের এই সাজা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায়। এটি পিএসসির প্রশ্নফাঁসের মামলার রায় নয়।

আলোচনায় আবেদ আলী

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৈয়দ আবেদ আলী ১৯৯৭ সালে পিএসসিতে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৪ সালে প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রশ্নফাঁসের একটি চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে আসে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আবেদ আলী এবং পিএসসির কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, একটি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছাল এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কোন কোন পর্যায়ে অনিয়ম হয়েছিল?

প্রশ্নফাঁস কি একজনের পক্ষে সম্ভব?

পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ একটি বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি।

একজন গাড়িচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই প্রশ্নফাঁসের পুরো ব্যবস্থার দায় তার ওপর বর্তায় কি না, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের পরিচয়, ভূমিকা ও দায়ও আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সিআইডির তদন্তে প্রশ্নফাঁসের একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের তথ্য উঠে আসার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ওই নেটওয়ার্কের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা এবং অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি।

দুদকের মামলায় সম্পদের হিসাব

আবেদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে দুদকের একাধিক মামলার তথ্যও আলোচনায় এসেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি আবেদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া তথ্য এবং আদালতে প্রমাণিত অপরাধ এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা এবং আদালতের সিদ্ধান্ত যাচাই করে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।

মূল প্রশ্নের উত্তর কোথায়?

সিয়ামের বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জনের মামলায় সাজা হলেও পিএসসির প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের ব্যক্তির বিচারিক অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট তথ্য থাকা জরুরি।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কোন কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে? তদন্তে উঠে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? অভিযুক্তদের সম্পদ অনুসন্ধান এবং মামলার বিচার কতদূর এগিয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা, দুদক, পিএসসি ও বিচারিক নথির মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁস শুধু পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা নয়, এটি নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনআস্থার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কোনো একজন অভিযুক্তকে ঘিরে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে, অভিযোগের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: খুলনায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সংগঠক ফাহিম মিয়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত

১

Nouveau casino en ligne : les limites et les règles de jeu responsable

২

Spotify Review 2026

৩

গঙ্গাচড়ায় ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ, কঠোর হুঁশিয়ারি

৪

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রতিবাদে শিবপুরে বিএনপির বিক্ষোভ

৫

রাজশাহীতে চোরাই ল্যাপটপ ও ১২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

৬

শতবর্ষী বিদ্যালয়ের মাঠে ড্রেন নির্মাণ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

৭

ছাত্রদল কর্মীর জীবনের দাম কি ২০ লাখ টাকা? জুলাই যোদ্ধা শাকিল হত্যা ও এমপি পুত্র গ্রেপ্তার নিয়ে যা জানা গেল

৮

মাদ্রাসা শিক্ষককে পেটানোই সমাধান নয়, অপরাধীর পরিচয় ধর্ম নয়, অপরাধীই: সাম্প্রদায়িক ট্যাগের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ

৯

রাজশাহীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে, পুনর্বাসিত হবেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

১০

নোবিপ্রবিতে নবীনবরণ ৭ নভেম্বর, থাকছেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা

১১

তাড়াইলে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, ২ হাজার ৬০০ টাকাতেও মিলছে না সিলিন্ডার

১২

বাঘারপাড়ার জহুরপুরে ২০০ বছরের প্রাচীন বটগাছ, প্রকৃতির অনন্য তোরণ

১৩

খুলনায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ পালিত: আলোচনা সভা ও মানববন্ধন

১৪

ডিপিসি সম্পন্ন, তবু পদোন্নতির জিও নেই: অপেক্ষায় ৩৭তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডার

১৫

নবীনগরে গাছের চারা লাগানো নিয়ে বিরোধ, বাক্‌প্রতিবন্ধী নারীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

১৬

সুন্দরবনে জাহাজের ধাক্কায় ডুবল কয়লাবাহী কার্গো, তলিয়ে গেল ১,২৫০ টন কয়লা

১৭

মিরসরাইয়ের নতুন ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, জনসেবায় বাড়ছে প্রত্যাশা

১৮

নির্বাচন কমিশনকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় জোটের

১৯

টঙ্গীর শিশু নিপীড়ন বিতর্কে নতুন মোড়, দেশ ছাড়ার দাবি শিশুটির বাবার

২০