শত বছরের লোকঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলার স্মৃতি ধারণ করে আসছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলা। একসময় বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্য, মাটির সামগ্রী, গাছের চারা, স্থানীয় কারুশিল্প, পুতুলনাচসহ নানা লোকজ বিনোদনে মুখর থাকত এ মেলা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মেলার চেহারা ও আয়োজনের ধরন।
২০০২ সালের ভয়াবহ বোমা হামলার পর গুড়পুকুরের মেলার ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ে। পরবর্তী সময়ে সীমিত পরিসরে মেলার আয়োজন হলেও আগের সেই গ্রামীণ আবহ ও লোকজ বৈচিত্র্য অনেকটাই হারিয়ে যায়।
দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৬ সালে আবারও মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককেন্দ্রিক এবারের আয়োজনে রয়েছে আলোকসজ্জা, বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টল এবং শিশু-কিশোরদের বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। এতে দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন করে আগ্রহ।
তবে আধুনিক বাণিজ্যিক আয়োজনের ভিড়ে গুড়পুকুরের ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি ও গ্রামীণ চরিত্র কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মেলায় শুধু বাণিজ্য ও বিনোদনের আয়োজন না রেখে স্থানীয় কারুশিল্প, কৃষিপণ্য, লোকগান, পুতুলনাচসহ হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবনে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মেলার নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, অগ্নিনিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি রয়েছে।
গুড়পুকুরের মেলা তাই শুধু একটি বিনোদন বা বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি সাতক্ষীরার ইতিহাস, স্মৃতি ও লোকঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য কতটা নতুন রূপে ফিরে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।