কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই দক্ষিণপাড়া এলাকায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামের এক ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী মোমেনা বেগম। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় চরম থমথমে ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম সোমবার জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ ও চাঁদা দাবির গুঞ্জন: নিহতের ভাই জালাল হোসেন জানান, রাতে স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন আনোয়ার। গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে স্ত্রীরও হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়।
জালালের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর এলাকায় ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন আনোয়ার। এ নিয়ে একটি পক্ষ মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিল এবং সেই চাঁদার টাকা দিতে না পারায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পূর্বের আধিপত্য: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনোয়ারের এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্যের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালে ড্রেজারের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে আনোয়ার ও তার বাহিনী হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ দলের বিক্ষুব্ধ পক্ষের কারণে এলাকাছাড়া ছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের পর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও গোপনে তিনি বাড়িতে ফেরেন এবং সেই রাতেই হামলার শিকার হন।
পুলিশের বক্তব্য: বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মো. শফিউল আলম সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, আনোয়ারের বিরুদ্ধে থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্টের পরেও তিনি মাঝে মাঝে এলাকায় এসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন, যার কারণে এলাকাবাসীর একটি পক্ষ বিক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।